Health-Blog

বিশ্ব হার্ট দিবস

heart last (5)

আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস

এবছরে বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিবাদ্য স্লোগান হচ্ছে My Heart, Your Heart  অর্থাৎ ‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট’- এ স্লোগানের অন্তর্নিহিত বিষয় হলো সকল সমমনা মানুষকে একীভূত করা ও হার্টের সুস্থতা বিষয়ে একতাবদ্ধ হওয়া। এই স্লোগানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়।

হৃদপিণ্ড বা হার্ট আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। বর্তমান সময়ে হার্টের সমস্যা এতোটাই প্রকট যে পৃথিবীতে প্রতিদিন শুধুমাত্র হার্ট এ্যাটাকের কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। হার্ট এ্যাটাক মানুষকে পঙ্গু ও বিকলাঙ্গও করে দেয় । তাই হার্টের সুস্থতা সকলেরই একান্ত কাম্য। কিন্তু আজকাল ভেজাল খাদ্য আর ব্যস্ত জীবন-যাত্রার কারণে শরীরের সুস্থতার দিকে আমরা মোটেও নজর দেইনা। তাই নানা রকম শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে হার্টেও সমস্যা দেখা দেয়। তাই আগে থেকেই হার্টকে সুস্থ রাখতে পালন করুণ কিছু সহজ নিয়ম। এতে করে আপনার শরীরও যেমন সুস্থ থাকবে অন্যদিকে হার্টও থাকবে ভালো।

তাহলে চলুন এখন  জেনে নেই হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখার সাধারণ   কিছু নিয়মাবলী

 

ধূমপান এড়িয়ে চলুন : বলা হয়ে থাকে ধূমপানে বিষপান। ধূমপানের ফলে একজন সুস্থ মানুষের গড় আয়ু ১৫ থেকে ২৫ বছর কমে যায়। একজন ধূমপায়ীর হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা একজন অধূমপায়ীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই অভ্যাসটি হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ অসুখের দিকে ঠেলে দেবে আপনাকে। ধূমপান বন্ধ করার মুহূর্ত থেকেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে।

বুকে ব্যথাকে অবহেলা করবেন না : বুকে ব্যথা হলে তাকে অবহেলা করা মোটেও উচিৎ নয়। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ব্যায়াম করার সময় যদি বুক ব্যথা করে, তবে সেটা বিপদসংকেত। অবশ্য অতিভোজনের পর ব্যথা হলে তা হজমের অসুবিধার কারণে হতে পারে। যদি মনে হয়, বুক ভারী হয়ে আসছে, শরীর ঘেমে উঠছে, তখনই দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। মোদ্দাকথা, বুকের ব্যথা যেমনই হোক, দ্রুত ডাক্তার দেখান।

লবণ খাওয়া কমানো : খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া  উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী। এর ফলে হৃদপিণ্ডের রক্তসরবরাহকারী ধমনী সম্পর্কিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আজ থেকেই খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

অ্যালকোহলের মাত্রা কমানো : অতিরিক্ত অ্যালকোহল হৃদপিন্ডের পেশির ক্ষতি করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং পাশাপাশি ওজনও বৃদ্ধি করে। তাই অ্যালকোহল গ্রহণ বাদ দেওয়া শরীরের জন্য ভালো। একবারে বাদ দেওয়া সম্ভব না হলে প্রতিদিন একটু একটু করে কমানোর চেষ্টা করতে হবে। বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। হার্টের যে কোনও সমস্যা তৈরি করে এই ট্রাইগ্লিসারাইড।

 

ডায়েট মেনে চলা : শরীরের জন্য যা উপকারী, সেইসব খাবার খান। সবসময় সুষম খাবার খাওয়া উচিত। ডায়েট মেনে চলুন। মাংস ও দুগ্ধজাত দ্রব্য কোলেস্টেরল লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে। তাজা ফল এবং সবজি, শষ্যজাতীয় খাবার যেমন- শষ্য থেকে তৈরি রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাবারে এগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা : তেল হচ্ছে আমাদের নিত্যদিনের খাবারের এক অপরিহার্য উপাদান। চর্বি আমাদের শরীরের এক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পরিমিত চর্বিযুক্ত খাবার আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়। কিন্তু অতিরিক্ত তেলাভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন : বাংলাদেশে একটি বহুল প্রচলিত শ্লোগান আছে: রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আসলে রাগ মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় হলেও, কথায় কথায় রেগে যাওয়া বা অতিরিক্ত রেগে যাওয়া কখনোই ভালো নয়। আপনি যখন প্রচণ্ড রেগে যান বা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, তখন আপনার শরীরের নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে যার মাঝে বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে উচ্চ শর্করা ইত্যাদি প্রধান। তাই নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সুস্থ থাকুন।

কর্মক্ষম থাকা : চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা উচিত। তাছাড়া কর্মক্ষম থাকা কেবল হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্যই নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।

হাসি হৃদয় সুস্থ রাখে : হাসি মানব দেহ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হাসির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের চাপ কমানো সম্ভব। তাই হাসুন, আর সুস্থ্য থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।