Health Blog

স্বাস্থ্যসম্মত ওজন কি ও এর উপকারিতা

weight

স্বাস্থ্যসম্মত ওজন কি ও এর উপকারিতা

 

স্বাস্থ্যসন্মত ওজন বলতে বোঝায় সুষম ওজন, যা সার্বিক শারীরিক অবস্থা সমন্বিত রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজন অথবা স্থুলতা এই সমন্বয়তার বিঘ্ন ঘটায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ-

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল ও নিম্ন-মাত্রার ভাল কোলেস্টেরল
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস
  • হৃদরোগ
  • স্ট্রোক
  • পিত্ত থলির পাথর
  • ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ্গ্রস্থতা
  • অষ্টিও আরথ্রাইটিস
  • অনিদ্রা ও শ্বাস জনিত সমস্যা
  • ক্যান্সার ( বিশেষত- জরায়ু, স্তন ও কোলন)
  • নাক ডাকা
  • বন্ধ্যাত্ব
  • চোখে ছানি পড়া ইত্যাদি।

সাধারণত বয়স ১৮ থেকে ৪৯ এর মাঝে প্রতি বছর ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি করে ওজন বাড়তে থাকে। এই ওজন বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হল আমাদের দৈনন্দিন জীবনাচারন। অর্থাৎ, আমাদের বেশিরভাগই খেয়াল রাখিনা আমরা কিভাবে চলি, কি খাচ্ছি বা নিয়ম মাফিক ব্যায়াম করছি কিনা! প্রতি বছর এ হারে ওজন বাড়তে থাকলে বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে যা পূর্বেই বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে-

  • মধ্যবয়স্ক পুরুষ বা মহিলাদের ক্ষেত্রে যারা ২০ বছর বয়সের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১-২০ পাউন্ড বাড়তি ওজনের শিকার হয়েছেন তাদের সাধারণের থেকে কমপক্ষে ৩ গুন বেশি উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল ও নিম্ন মাত্রার ভাল কোলেস্টেরল, টাইপ- ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও পিত্ত থলির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • রজ-প্রক্রিয়া পরবর্তী মহিলাদের স্থুলতা কারনে “পোস্ট মেনোপোজাল ব্রেস্ট ক্যান্সার” হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে

কি কারনে ওজন বাড়ে?

  • খাবারঃ খাবারের গুনগত মান ওজন বৃদ্ধির একটি বড় কারন। খাবারের গুনগতমান ঠিক না থাকলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
  • জিনঃ বংশগত কারণ বা জিনগত কারণে ওজন বাড়তে পারে। সাধারণত দেখা যায়, জিনগত কারনে ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত হয়ে থাকে।
  • অকর্মণ্যতাঃ দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটানো, কায়িক পরিশ্রম না করা বা শারীরিক ব্যায়াম না করা স্থুলতার একটি বড় কারণ।
  • অপর্যাপ্ত ঘুমঃ অপর্যাপ্ত ঘুম ওজন বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। দেখা যায়, তরুণ ও বয়স্কদের মাঝে যারা পর্যাপ্ত ঘুমাননা তাদের মাঝে অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা দেখা যায়।

শারীরিকভাবে সঠিক ওজন বজায় রাখলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব,

  • হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • স্ট্রোক প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে
  • কিছু প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • নন ইনসুলিন ডিপেন্ডেণ্ট ডায়াবেটিস এ- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে
  • কোমর ও অস্থিসন্ধির টেনশন কমাতে সাহায্য করে
  • আত্ম স্পৃহা বজায় রাখে ও কর্ম চাঞ্চ্যলতা বজায় রাখে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করে
  • বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *