Health Blog

ফাহিম সাহেবের হার্ট এট্যাক । পর্ব- ১

fahims-heart-attack

ফাহিম সাহেবের হার্ট এট্যাক

পর্ব- ১

 

ফাহিম সাহেবের বয়স ৩৫, এক সন্তান আর স্ত্রী কে নিয়ে মগবাজারে তার বাসা। ছোট খাট চাকুরে, এক আইটি ফার্মে  ৯-৫ টা অফিস করেন। সারাদিন অফিসের পর পরিবারকে দেয়া একটু সময় আর বন্ধের দিন গুলোতে হঠাৎ হঠাৎ এদিক সেদিক ঘুরতে যাওয়া ফাহিম সাহেবের দিনকাল ভালই কাটছিল যতক্ষণ না পর্যন্ত মিসেস ফাহিমের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে!

এইতো সেদিন ফাহিম সাহেব রোজকার মত কাজ শেষ করে সিগারেটে টান দিতে দিতে বাসায় আসছিলেন। ভাবলেন মোড়ের দোকান থেকে বাচ্চাটার জন্য কিছু কিনে রিক্সায় ফিরবেন। গ্রীষ্ম-কালীন  হাওয়ায় আর কড়া রোদ মাথায় করে ঘামতে ঘামতে আনকোরা ফুটপাথ দিয়ে দোকানের উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলেন, নাহ শরীরটা কেমন জানি ভাড়ি লাগছে, মোটা হয়ে যাচ্ছেন নাকি! হঠাৎ অনুভব করলেন বুকে কেমন চিন চিনে ব্যাথা, কেমন জানি অদ্ভুদ ধরনের ব্যাথা সঙ্গে হাল্কা শিরশিরে অনুভূতি যেন বুক থেকে বাম হাতের দিকে বেয়ে গেল। তেমন পাত্তা দিলেন না তিনি। ভাবলেন গ্যাসের ব্যাথা। বাসায় যেয়ে একটা ট্যাবলেট খেয়ে নিলেই হল। এর আগেও এমন হয়েছিল একবার, আসলে অফিসে প্রায়ই দেখা যায় ভাল মন্দ খাওয়া হয়। এইতো আজকেও কিরকম এলাহি খানাপিনা ছিল। বোধহয় এই কারণেই বদ হজম হচ্ছে তাই বুঝি গ্যাসের যন্ত্রণা। আচ্ছা বাংলাদেশের সব মানুষের গ্যাস  যদি একত্র করা হয়, তা থেকে তো চতুষ্পদের মত বায়ো গ্যাস তৈরি করা সম্ভব, আর খাওয়া দাওয়া তো একটা কন্টিনুয়াল ব্যাপার, দেশে গ্যাসের চাহিদার নতুন যোগান হবে—এসব হাবি যাবি ভাবছেন, হঠাৎ, কি হল চোখে মুখে অন্ধকার দেখা শুরু করলেন, এর পর আর কিছু মনে নেই।

 

ঢাকার নামকরা এক বিশেষায়িত হাসপাতালে ফাহিম সাহেবের বেডের পাশে উদ্বিগ্ন মুখে মিসেস ফাহিম বসে আছেন। মনে মনে উপরঅলাকে ডাকছেন হয়ত। চোখ খুলে একটু ধাতস্ত হলে ফাহিম সাহেব দেখলেন তার হাতে বেশ কয়েক জাগায় স্যালাইনের সংযোগ, আর বুকে কি সব তার টার প্যাঁচানো, নিজেকে তার কেমন জানি কম্পিউটারের সি পি ইউর মত মনে হতে লাগল। মিসেস কে জিজ্ঞেসা করে বুঝলেন, আগেরদিন তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর কিছু দয়াবান লোকের সাহায্যে তার পকেটের মানিব্যাগ ঘেঁটে অফিসের নাম্বার নিয়ে সেখানে যোগাযোগ করা হয়। অফিসের পিয়ন ও কিছু কলিগ দ্রুত অবস্থা দেখে একটা সি এন জি ডেকে এই হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে নিয়ে আসে। মাঝপথে অফিস থেকে মিসেস কে জানালে তিনিও বাচ্চা পাশের বাসার ভাবির কাছে দিয়ে বাসা থেকে ছুটে আসেন। ইমারজেন্সির ডাক্তার বলেছিলেন, হার্টের কোন সমস্যা থেকে এমন হতে পারে, তবে পুরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান থেকে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যে পরীক্ষার জন্য যাবতীয় আনুষাঙ্গিক রক্তের স্যাম্পল, বুকের এক্স রে ইত্যাদি করা হয়েছে, রিপোর্ট ও চলে এসেছে। কিছুক্ষণ পরে তার জন্য নির্বারিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এলে তিনি বিস্তারিত জানতে পারবেন। এই হল বৃত্তান্ত।

চিকিৎসক ডাঃ করিমুল জোয়ারদার সাহেব, অমায়িক, হাসিখুশি মানুষ। নিয়ম মাফিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত, তিনি নিজেও মনে করতে পারেন না কবে তিনি শেষ অসুখে ভুগেছিলেন! তিনি চান তার রোগীরাও যেন তার মত থাকেন, রুটিন মাফিক  কিছু ভাল অভ্যাসের মাধ্যমে সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান থাকুক। সাত সকালে তার কাজের চাপ তেমন ছিলনা। তিনি ফাহিম সাহেবের বেডের পাশে রাখা চেয়ারে বসলেন। হাতে ফাহিম সাহেবের গত রাতে আসা রিপোর্ট। উদ্বিগ্ন চোখে ফাহিম সাহেবের স্ত্রী তাকিয়ে আছেন ডাক্তার সাহেবের দিকে। করিমুল সাহেব লম্বা দম নিলেন ব্রেকিং দ্যা ব্যাড নিউজ নামে একটা চ্যাপ্টার পড়েছিলেন মেডিকেলের বই এ। এক ঝলক মনে করলেন তিনি। এরপর মুখ খুললেন,

কি খবর ফাহিম সাহেব? কেমন আছেন এখন, কেমন বোধ করছেন?ইত্যাদি টুকিটাকি হালকা আলাপের পর তিনি জানালেন তার সাডেন কার্ডিয়াক এট্যাক হয়েছিল। সহজ বাংলায় হার্ট এট্যাক বলতে যা বোঝায়! আসলে হার্ট এট্যাক শব্দেই কম বেশি সবাই পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *