Health Blog

৬ প্রকার বডি ফ্যাট ও প্রতিকার

robi-blog-fat

৬ প্রকার বডি ফ্যাট ও প্রতিকার

 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরের মেটাবোলিজমের হাড় কমতে থাকে। এর কারণে শরীরের বিভিন্ন জাগায় চর্বির পরিমাণ বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ববোধের পাশাপাশি কাজের ধারাও পাল্টাতে থাকে, হয়ে যাই অনেক ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার কারনে আমরা শারীরিক ব্যায়াম করার সময় পাইনা, সময় হয়ে ওঠেনা সুষম খাবারের ব্যবস্থা করার। ফলে শরীরে জমা হতে থাকে চর্বি বা ফ্যাট, যা আমাদের স্বাভাবিক শারীরিক বাধন ধরে রাখার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দূর করার অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। এর কারন হল প্রত্যেকের শারীরিক কাঠামো ভিন্ন। সুতরাং, আমরা যদি বুঝতে পারি আমাদের শারীরিক কাঠামো কি ধরনের তাহলে, এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

 

শরীরে চর্বি জমার কারনের উপর ভিত্তি করে সাধারণত নিচের ৬ প্রকার বডি ফ্যাট বা চর্বি জমা থাকতে পারে-

 

 

  • আপার বডি ফ্যাটঃ

 

এ ধরনের ফ্যাটের মূল কারন হল, ক্যলরি বিয়োজনের থেকে বেশি গ্রহণ। অর্থাৎ,বেশি বেশি ক্যলরিযুক্ত খাবার খাওয়া। সাধারণত বেশিরভাগই ব্যায়ামের থেকে খেতে পছন্দ করে, ফলস্বরূপ আপার বডি ফ্যাট তৈরি হয়ে থাকে। এ থেকে মুক্তির সবচে সহজ উপায় হল,খাবারের তালিকা থেকে মিষ্টি জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করা। বিভিন্ন এরোবিক এক্সারসাইজ, হাঁটা বা সাঁতার কাটাও হতে পারে ব্যায়ামের মাঝে।

 

 

  • লোয়ার এবডমেন ফ্যাট

 

সাধারনত মহিলাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বডি ফ্যাট দেখা যায়। তলপেটে বা শরীরের নিম্নাংশে চর্বি জমার কিছু কারণের মাঝে ডিপ্রেশন, অস্থিরতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ভাল উপায় হল, দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা, রিলাক্সড ও স্বাভাবিক জীবনাচারণ করা। শরীরের করটিসল নামক হরমোন এ সকল মানসিক কারনে নিঃসরণ হয় যা চর্বি তৈরিতে সাহায্য করে। যোগ ব্যায়াম, মেডিটেশন এর মাধ্যমে এ সব দুশ্চিন্তা দূর করতে পারলে উপকার পাওয়া সম্ভব।

 

 

  • লোয়ার বডি ফ্যাট

 

কখনো লক্ষ্য করেছেন, আপনার থাই বা ঊরু আস্তে আস্তে মোটা হয়ে যাচ্ছে? এর কারন হতে পারে শরীরে অতিরিক্ত গ্লুটেন জমা হওয়া। সবচে ভাল হয় গ্লুটেন মুক্ত খাবার যেমন, ফল বা সবজি, তাজা মাছ বা কম চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি গ্রহণ করলে। তাছাড়া, অফিস, কর্মক্ষেত্রে বা বাসায় চলাফেরার ক্ষেত্রে লিফট ব্যবহারের বদলে যতদুর সম্ভব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঊরুর গঠন মজবুত হওয়ার পাশাপাশি ফ্যাট ও কমবে। আরেকটি ব্যাপার হল, প্রতিদিন সকালে নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস করা, সকালে নাস্তা না করলে দিনের অন্য সময় বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যাবে।

 

 

  • পাকস্থলীর (পেট) ফ্যাট

 

অনেকে আছেন যারা এলকোহল পানে আসক্ত বা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভোগেন। তাদের ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে ফ্যাট জমতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হল এলকোহল-কে না বলা ও সঠিক চিকিৎসা নেয়া।

 

 

  • শরীরের নিম্নাংশের ( পা) ফ্যাট

 

সাধারণত মহিলাদের এ ধরনের ফ্যাট জমা হয়ে থাকে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। এ সময় তারা বিভিন্ন পা ও গোড়ালি ব্যাথায় আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত, যেকোন প্রকার লবণাক্ত খাবার এ সময়ে পরিহার করা উচিত ও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটা উচিত।

 

 

  • পেট ও কাঁধের ফ্যাট

 

এ ধরনের ফ্যাটের মূল কারন হল, অকর্মণ্যতা অর্থাৎ কায়িক শ্রম না করা। শারীরিক শ্রম না করলে এ ধরনের ফ্যাট জমা হয়ে থাকে। নিয়মিত ও প্রাত্যাহিক ব্যায়াম শরীরের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের পাশাপাশি খাবারের পরিমাণেও সংযমী হতে হবে। ক্যালরি বিয়োজনের থেকে গ্রহণ বেশি হলে তা পেট ও কাঁধে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকবে। তাছাড়া আরেকটি জরুরী বিষয় হল পরিমিত ঘুম। অপরিমিত ঘুম বা অনিদ্রার কারনে শরীরের কিছু বিশেষ হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়, যেগুলো খাওয়ার চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিমিত ঘুম কাম্য।

 

সুষম খাবারের মূল চাবিকাঠি হল খাবারের উপাদান সমূহ। মনে রাখা ভাল যে, প্রতিদিনের ডায়েটে পরিমিত পরিমাণ প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখা খুব জরুরী, আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরের শক্তি যোগায় ও চলা ফেরায় সাহায্য করে। আরেকটি হল ফ্যাট। সত্যি বলতে সব ফ্যাট ই খারাপ নয়, অনেক ভাল ফ্যাট আছে যা মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ড সুরক্ষায় উপকারী। যেমন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এ ধরনের ফ্যাট মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

এছাড়া উচ্চ আঁশ যুক্ত খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরী। আশ যুক্ত খাবার- হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওজন হ্রাস ও দেহের বহিঃ সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত ও সুগঠিত রাখতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা জরুরী, পাশাপাশি ক্যালসিয়াম শরীরের স্নায়ু তন্ত্রের বিকাশ ও গঠনে সাহায্য করে ও হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কর্ম প্রক্রিয়া বজায় রাখে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *