Health Blog

বি এম আইঃ সাধারণ ধারনা

Robi Blog Banner

বি এম আইঃ সাধারণ ধারনা

 

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন । শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার খাইনা আবার অনেকেই এত বেশি পরিমাণ খাবার খাই যার ফলে শরীরে চর্বি জমে স্থুলকার ধারণ করে । ফলে শরীরের ওজন বেড়ে গিয়ে নানান রোগে আক্রান্ত হই। আমরা অনেকেই জানিনা আমাদের দেহের ওজন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ঠিক আছে কিনা । যদি আমরা তা বুঝতে পারি তাহলে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি । এটি জানার জন্য জানতে হবে শরীরের বিএমআই সম্পর্কে।

Body Mass Index (BMI) হল প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার ভিত্তিতে স্থুলতা নির্ণয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বাধিক প্রচলিত সূচক বা পন্থা, যা ব্যক্তির ওজনাধিক্যের ধরণ নির্দেশ করে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি হতে রক্ষা করে। বিএমআই মানের মাধ্যমে জানা যায় যে দেহের ওজন স্বাভাবিক, কম বা বেশী ইত্যাদির মধ্যে কোন পর্যায়ে আছে ।

সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরোগ জীবন প্রতিটি মানুষেরই কাম্য। কেননা, একটি সুস্থ দেহের মাধ্যমেই একটি স্বাভাবিক, কর্মক্ষম ও নিরোগ জীবন লাভ সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার সাথে ওজনাধিক্যের রয়েছে  নিবিড় সম্পর্ক। যাদের ওজন বেশি, অর্থাৎ, যারা ওজনাধিক্য কিংবা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অষ্টিওপোরেসিস সহ নানা অসুখ হবার আশঙ্কা থাকে, যা মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পক্ষান্তরে, কারও ওজন যদি খুব কম থাকে, তবে সে সবসময় দুর্বল ও ক্লান্তবোধ করে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।

এ সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতে প্রতিটি মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন লাভের জন্য একটি কাম্য ওজন বা Standard weight বিবেচনা করা হয়। ব্যক্তি বিশেষের এই কাম্য ওজন পরিমাপের একটি পদ্ধতি হলো Body Mass Index বা BMI নিরূপণ।


সু-স্বাস্থ্যের উপর পুষ্টি উপাদানের প্রভাব নিয়ে নানা গবেষণায় ওজনাধিক্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মানুষের নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাম্য ওজন অপেক্ষা শতকরা ১০ ভাগ বেশি হলে ওজনাধিক্য বলা যেতে পারে। কিন্তু ওজন যদি শতকরা ২০ ভাগের বেশি হয় তবে তাকে প্রথম শ্রেনীর স্থুলতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
আর এই কাম্য ওজন নির্ধারণে ব্যক্তির বি.এম.আই নিরূপণ অত্যন্ত জরুরী। প্রতিটি মানুষেরই উচিত বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এছাড়াও প্রত্যেকরই বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি চাহিদা। আর সেজন্যই প্রতিটি মানুষের বি.এম.আই নিরূপণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত। একথা মনে রাখতে হবে যে- বি.এম.আই হল একমাত্র প্রভাবক বা সূচক, যার উচ্চমাত্রা স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার ঝুঁকি নির্দেশ করে।

বি এম আই নির্ণয় এবং এর ব্যাখ্যাঃ

বি এম আই নির্নয়ের সবচে গ্রহনযোগ্য একক হচ্ছে এস আই একক, যা ওজন (কি.গ্রা.) / উচ্চতা (মিটার) হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

বিএমআই

ওজন (কি.গ্রা.) / উচ্চতা (মিটার)

শ্রেনী
< ১৮.৫০ওজনহীনতা
১৮.৫০ – ২৪.৯স্বাভাবিক
২৫.০০ – ২৯.৯ওজনাধিক্য
৩০.০০ – ৩৪.৯গ্রেড-১ স্থুলতা
৩৫.০০ – ৩৯.৯গ্রেড-২ স্থুলতা
> ৪০.০০গ্রেড-৩ স্থুলতা/ রোগ গ্রস্থ চূড়ান্ত পর্যায়ের স্থুলতা

 

একটি উদাহরন দিলে বি এম আই আরো সহজে বুঝা যাবে –

  • মনে করি, একজন মানুষের উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি , অর্থাৎ ৬২ ইঞ্চি বা (৬২*২.৫৪=) ১৫৭ সেমি বা ১.৫৭ মিটার। আর ওজন ৬২ কেজি। তাহলে তার বি এম আই হবে –   ৬২ ÷ (১.৫৭) = ২৫.১৫ কেজি/মিওপরের চার্ট অনুযায়ী তিনি ওজনাধিক্য গ্রুপের মাঝে পড়েছেন।

এভাবে আপনিও আপনার বি এম আই বের করে জেনে নিন আপনার ওজন কোন অবস্থায় আছে, এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *