Health Blog

আসলাম সাহেবের স্থুলতা | পর্ব – ১

Over Weight 11-1_v3 (1)


আসলাম সাহেবের স্থুলতা

পর্ব- ১

আসলাম সাহেব, বয়স- ৪৪, বিবাহিত- এক ছেলের বাবা। বউ সামিনা ও ছেলে নাসিবকে নিয়ে তার ছোট পরিবার, রাজধানীর বারিধারাতে নিজস্ব ফ্ল্যাটে শুয়ে, বসে কাটে তার দিন। না তিনি আয়েশি মানুষ নন, বা এমন না যে, তিনি কাজ করতে পছন্দ করেন না। প্রায় ২ সপ্তাহ যাবত তিনি বিছানায় এক রকম পরা অবস্থাতে আছেন। কিছুদিন আগে তার অপারেশন হয়েছে, মোটামুটি জটিলই বলা চলে।

ঘটনার শুরু আরো আগে থেকেই, সদ্য মাস্টার্স শেষ করা আসলাম যোগ দিলেন পারিবারিক ব্যবসায়, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট এর ব্যবসা। আসলামের বাবার হাত ধরেই তার ব্যবসায় আসা। কাজের সূত্রে, আজ এই দেশ তো কাল ঐ দেশ। বিরামহীন কাজ ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা ধারার কারনে তার ব্যবসা আরো প্রসার লাভ করে। এর মাঝে বাসা থেকে অবিরাম চাপ দিলে বিয়ের পিড়িতে বসেন আসলাম।

আসলাম- সামিনার দিন কাটে বেশ ভাল ভাবেই। কাজ পাগল আসলামের দিন শুরু হয় ভোরে ও শেষ কখন হয় তার ঠিক নেই, খাওয়া দাওয়া তার বেশিরভাগই অফিসে বা দর্শনীয় কোন রেস্টুরেন্টে। এ নিয়ে সামিনার অনুযোগের শেষ নেই!

খেতে খুব পছন্দ করেন, বলা যায় ভোজন রসিক। ওজন ও তার হালকা বাড়তির দিকে, সেই কিশোর বয়স থেকেই। পারিবারিক ভাবে প্রাপ্ত উচ্চ রক্তচাপের কারনে বাবা, মা বার বার খাবার নিয়ে সতর্ক করলেও লুকিয়ে ঠিকই বিভিন্ন পদের খাবার তিনি টেস্ট করেন। বিভিন্ন, কর্পোরেট আড্ডা, অফিসিয়াল ভিজিট বা দেশের বাইরে কোন মিটিং এ চেষ্টা করেন ক্লায়েন্ট রা যেন বেস্ট খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন। কাজ পাগল হলেও তিনি এই খাওয়া নিয়ে খুব একটা কম্প্রোমাইজ করেন না।

৬ ফুট উচ্চতার আসলামের শারীরিক ওজন গিয়ে ঠেকেছে প্রায় দেড়শো কেজির উপরে! একদিন ভাবলেন, “যাই একজন ডাক্তার দেখিয়ে আসি, এমন কোন ওষুধ আছে কিনা যেটা খাবার রুচি ঠিক রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করবে!” হেলতে দুলতে চিকিৎসক বন্ধু শিহাবের চেম্বারে ঢুকে ধম করে বসলেন পাশের চেয়ারে। বন্ধু আসলামের এমন আবদার শুনে শিহাব তার হাই পাওয়ারের চশমা ঠিক করতে করতে কি জানি কিছুক্ষণ ভাবলেন, বললেন দেখ আসলাম, তোর যা সমস্যা এটা ওষুধে খুব একটা কাজ হবেনা, তোর দরকার কার্যকরী ব্যায়াম – পাশাপাশি নিয়ম করে খাওয়া দাওয়া। আসলাম হা করে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইল, কি বলিস! এছাড়া আর কোন উপায় নেই? শিহাব হালকা হাসি দিয়ে বললেন, ওষুধে খুব একটা কাজ করবেনা আর ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য এর বিকল্প নেই। আসলাম বলল, আচ্ছা বন্ধু, আমার কি কোন রোগ হয়েছে? জবাবে শিহাব বললেন, তুই যে সমস্যায় ভুগছিস, এটাকে বলে স্থূলতা বা ওবেসিটি। আসলামের অনুরোধে আরো বিস্তারিত বলা শুরু করলেন শিহাব,

ওবেসিটি শরীরের এক বিশেষ অবস্থা। এই অবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ায় আয়ু কমে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই স্থূলতা নিয়ে জানতে হলে, প্রথমে প্রয়োজন বডি মাস ইনডেক্স জেনে নেওয়া। বডি মাস ইনডেক্স (BMI) হলো শরীরের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার, যা দিয়ে বোঝা যায় যে কোনো ব্যক্তি মাত্রাধিক ওজন (pre-obese) বিশিষ্ট কিনা। যদি কারো বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৫ kg/m2 থেকে ৩০ kg/m2 মধ্যে থাকে তখন তাকে স্থূলকায় বা মোটা বলা যেতে পারে, আর যখন বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ৩০ kg/m2 বেশি থাকে তখন তাকে অতি স্থূলকায় বা অতিরিক্ত মোটা বলা হয়।বডি মাস ইনিডেক্সের মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি তার অতিরিক্ত ওজন সম্পর্কে সঠিক ধারনা পেতে পারে।  বি এম আই একটি পরিমাপ সূচক যা ওজন ও উচ্চতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত। পুরুষ ও মহিলাদের স্বাস্থ্যসূচক হিসেবে এটি বহুল প্রচলিত একটি গাণিতিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ, ওজন ( কেজি তে) কে উচ্চতার ( মিটার এ) দ্বি- গুণিতক দিয়ে ভাগ করলে বি এম আই পাওয়া যায়। সুতরাং, বি এম আই = ওজন ( কেজি)/ উচ্চতা (মিটার)^২ ।

মনে রাখা উচিত যে, যাদের ওজন বেশি তাদের অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এবং দেখা যায় বেশির ভাগ অসুখ তাদের অতিরিক্ত ওজন জনিত।

এখন দেখি, কারো ওজন বেশি কিনা তা কিভাবে বুঝবঃ

বি এম আই (বডি মাস ইনডেক্স) এর মাধ্যমে আমরা কারো ওজনের তারতম্য  বুঝতে পারিঃ

– একজন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক BMI:- (১৮.৫- ২৯.৯)

– কারো BMI ১৮.৫ এর কম হলে তাকে আমরা আন্ডারওয়েট/ কম ওজন বিশিষ্ট / স্বাস্থ্যহীনতা বলি, মানে তার ওজন কম আছে

– কারো BMI যদি ২৫-২৯.৯ হয় তাহলে আমরা তাকে অতিরিক্ত ওজন বা ওভারওয়েট বলে অভিহিত করি

– কারো BMI ৩০-৩৪.৯ হলে তাকে আমরা ওবিস-টাইপ ১/ অতি স্থুলতার প্রথম ধাপ বলি

– কারো BMI  ৩৫-৩৯.৯ হলে তাকে আমরা ওবিস-টাইপ ২/ অতি স্থুলতার দ্বিতীয় ধাপ বলি

– কারো BMI যদি ৪০ এর উপর হয় তাকে আমরা ওবিস-টাইপ ৩/ অতি স্থুলতার তৃতীয় ধাপ বলি।

                                                                                                                                                                        ( চলবে ….. )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *