Health Blog

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস | পর্ব-১

Posted
Diabetes on pregnancy

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস | পর্ব-১

সালমা, বয়স ৩৫, থাকেন ফরিদপুর জেলার এক মফস্বলে। প্রায় ৬ মাস হল তিনি গর্ভবতী। এর আগেও তিনি বাচ্চা নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দুঃখজনক ভাবে মাত্র এক মাস ও অপরজন চার মাসের মাথায় অকাল গর্ভপাতে সালমা দু-বাচ্চা হারান। স্থানীয় দাই দ্বারা আগের দু বাচ্চা প্রসব হয়েছে। এবারে গ্রামে এসেছে নতুন একজন ডাক্তার; ডাঃ শবনম। সালমা আশার আলো দেখলেন যদি কোন সমস্যা ছাড়াই এবারে গর্ভপাত ঠেকানো যায়!

কোন এক শীতের সকালে সলামা তার বর সহ ভ্যানে করে রওয়ানা দিলেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, উদ্দ্যেশ্য ডাঃ শবনম কে দেখানো। সদ্য আগত চিকিৎসক ডাঃ শবনম অল্পের মাঝেই তার নতুন কর্মস্থল গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। অজপাড়াগায়ে তার নতুন কর্মস্থল নিয়ে হালকা শঙ্কা কাজ করলেও এলাকার জনগণ তাকে বেশ ভাল ভাবেই বরন করে নেয়। নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে তার তাই খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

সালমার ভ্যান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসলে তিনি বর সহ ডাক্তার শবনমের রুমে ঢুকলেন। সালমার একটু হাঁসফাঁস লাগছিল, তাই দেখে শবনম তার রুগিনিকে কিছুক্ষণ বেডে শুয়ে বিশ্রামের পরামর্শ দিলেন।

কিছুক্ষণ পর সালমা ধাতস্থ হলে শবনম তার কাছে এলে সালমার সমস্যা ও আগমনের কারন জিজ্ঞাসা করলেন।

সালমা মোটামুটি সবই খুলে বললেন, আগের দু বাচ্চার অকাল গর্ভপাত, স্থানীয় দাই দ্বারা প্রসব, চিকিৎসার অপ্রতুলতা, গর্ভ পূর্ববর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়া ইত্যাদি।

সব শুনে ডাঃ শবনম সালমার বর কে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন সঠিক সময়ে চিকিৎসার ব্যাবস্থা নেননি? সালমার বর বরকত মিয়া বললেন, আর্থিক অনটন ও সঠিক শিক্ষার অভাবের কারনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন নি, কিন্তু শেষের দিকে তারা কোন মতে কিছু পয়সা যোগার করে দ্বিতীয় বাচ্চার সময় জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়দের কারনে যাওয়া হয়নি, তাই দাই দ্বারা প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

শবনম সব শুনে তার রুগিনির রক্তচাপ ও নাড়ির গতি পরীক্ষা করে দেখলেন, রক্তচাপ অল্প একটু বাড়তি পেলেন। সালমাকে বললেন, দেখুন মা, আপনার রক্তচাপ একটু বাড়তি দেখাচ্ছে, এটা গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক, কিন্তু যেহেতু আপনার আগের গর্ভ বিষয়ক ইতিহাস শঙ্কার ছিল, তাই এবারে কোন রিস্ক নেয়া যাবেনা, আপনার আরো কিছুর পরীক্ষার প্রয়োজন আছে, যেমন- প্রস্রাব ও ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করা আপনার জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। সাধারণত সঠিক চিকিৎসা ছাড়াও সঠিক রোগ নির্ণয়ের অভাবে অনেক গর্ভবতী মায়েরা অকাল গর্ভপাতের শিকার হোন, আপনার ক্ষেত্রে আর রিস্ক নেয়া ঠিক হবেনা, আমি আপনাকে কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি আপাতত। এগুলো খাবেন নিয়ম করে ও পরীক্ষার জন্য আপনাকে রক্ত ও প্রস্রাব দেয়া দেয়া লাগবে। যা আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই করা যাবে। কিন্তু আপনার বাচ্চার বর্তমান অবস্থা কি তা জানার জন্য আপনাকে কষ্ট করে জেলা সদরে যাওয়া লাগবে আলট্রাসনো পরীক্ষার জন্য, সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে নেয়া ভাল। এই বলে তিনি ব্যবস্থাপত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লিখে দিলেন।

পরের দিন সকালে সালমা আবার এলেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সব রিপোর্ট সহ। শবনম দেখলেন স্ক্যেনের রিপোর্ট মোটামুটি ভালই আছে, যদিও বাচ্চা একটু বড় দেখাচ্ছে রিপোর্ট অনুযায়ী। এবার রক্তের রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডাঃ শবনম কিছুক্ষণ থ মেরে গেলেন, রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি। সালমাকে ডাঃ শবনম অবহিত করে বললেন, দেখুন আপনার রক্তে চিনির মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে, এমন ও হতে পারে আপনার পূর্ববর্তী বাচ্চাদের গর্ভপাত হবার এটাই কারন হতে পারে। এদিকে আপনার রক্তের রিপোর্ট মতে আপনি কিছুটা রক্ত স্বল্পতায় ও আছেন, আপনাকে দেয়া ওষুধ শুধু নয়, বেশি করে পুষ্টিকর খাবার দাবারও খেতে হবে, বিশেষ করে শাক সবজি, ছোট মাছ, দেশি মুরগি ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা আপনার রক্তের চিনির মাত্রা কমাতে হবে, এখন যা অবস্থা আপনাকে ইনসুলিন নামক ইনজেকশন নেয়া লাগবে। আমি ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছি, এটা নেয়া শুরু করেন, কিন্তু আপনাকে পরের সপ্তাহে আবার আসতে হবে পুনরায় রক্তের পরীক্ষা করার জন্য।

 

ডাঃ মির্জা আসিফ আদনান

মেডিকেল অফিসার

সিমেড হেলথ লিঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *